মোবাইল কেডি মিল্টন : সারে ৬ হাজারের বেশি হারানো ফোন উদ্ধার করেছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা

0
২০১৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন মিল্টন কুমার দেব দাস। প্রথম কর্মক্ষেত্র ছিল কুষ্টিয়া। এরপর নানান জায়গায় পাড়ি দিয়ে কাজ শুরু করেন ঢাকার খিলগাঁওতে।


মিল্টন বলেন, 'ডিজিটাল বা তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের কাজে মোবাইলসংক্রান্ত নানাবিধ তথ্য নিতে হয়। আমরা যারা তদন্ত করি, তারা মোবাইল বিষয়ে বেশি কাজ করি। সেখান থেকে কাজের সুযোগ বাড়ল। তখন হারানো মোবাইলের জিডি এলে সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করতাম। আর সেভাবেই শুরু হলো।'

পুলিশকে জনগণের বন্ধু বলা হলেও পুলিশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভিন্ন কিছু ধারণা রয়েছে। আর এই ধারণা ভাঙতেই কাজ করছেন মিল্টন কুমার দেব দাস। মিল্টনের ভাষ্যে, পুলিশের প্রতি মানুষের যে নেতিবাচক ধারণা আছে, তার কিছুটা ধীরে ধীরে দূর হচ্ছে এই কাজের মাধ্যমে। শুধু তা-ই নয়, তার মাধ্যমে পুরো বাহিনীরই ইতিবাচক উপস্থাপন হচ্ছে জনগণের সামনে।


শিক্ষার্থীরাই চোরাই মোবাইলের মূল ক্রেতা!
কম দামে পাওয়া যায় বলে অজান্তেই অধিকাংশ সময় চোরাই মোবাইলের ক্রেতা হন শিক্ষার্থীরা। কোনোরকমের বাক্স ছাড়াই কম দামে যাচাই-বাছাইহীনভাবেই মোবাইল কেনেন তারা। পরবর্তী সময়ে হারানো মোবাইল যখন তাদের কাছে পাওয়া যায়, তখন পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। আইন অনুযায়ী চোরাই মাল বহনে শাস্তির বিধান থাকলেও মানবিকতার খাতিরে অনেকসময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেয়।

মিল্টন বলেন, 'না বুঝে কিনলেও ক্রেতা অপরাধ করেছে। এখন মোবাইলটি যদি ডাকাতির কোনো জিনিস হতো বা যে মার্ডার করে মোবাইল ফেলে গেছে এবং সেটি আপনি কিনেছেন, তাতেও ছাড়ার কোনো সুযোগ থাকত না। তাকে জেলে যেতে হতো। ক্রেতা বাক্স ছাড়া ফোন না কিনলে এই সমস্যায় পড়বে না। এমনকি বন্ধুর কাছ থেকে মোবাইল কিনলেও বাক্সসহই কিনতে হবে।'


মিল্টন বলেন, 'যদি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে না উদ্ধার না হয়, তারপর আমার সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। সাধারণত দেখা যায়, মোবাইল চুরি হলেই সবাই প্রথমে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুধু ঢাকা না, সারা বাংলাদেশ থেকে যোগাযোগ করেন। আমি তো আমার জুরিডিকশনের বাইরে জিডি নিতে পারব না।'

সাধারণ জনগণের মধ্যে মোবাইল নিয়ে অসচেতনতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মিল্টন। তিনি বলেন, 'মোবাইল হারানোর সাথে সাথে এত মানুষের কাছে আইএমইআই নাম্বার এবং জিডির কপি দেয়, কে যে মোবাইল উদ্ধার করে ফেলেছে, সেটাই সে জানতে পারে না।'


মোবাইল হাতে এবং সামনের পকেটে রাখলে চুরি হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যায় বলে জানান মিল্টন।

পরিবারের সদস্যদেরও ভরসার জায়গা মিল্টন কুমার দেব দাস। তাদের কারও মোবাইল হারালেও ডাক পড়ে মিল্টনের। একগাল হেসে মিল্টন বলেন, 'বাংলাদেশের যেখানেই ফোন হারাক, প্রথম কলটা আমার কাছেই আসে। আমার নাম্বার এখন জাতীয় নাম্বার হয়ে গেছে!



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)